নিজস্ব প্রতিবেদক
অ্যাসোসিয়েশন অব সার্জনস ফর স্লিপ অ্যাপনিয়া বাংলাদেশের (আসাব) নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হলেন অধ্যাপক খোরশেদ আলম মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা.মো. আসাদুর রহমান।
গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দশম আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে আসাবের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনে জানানো হয়, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ি, বর্তমান নির্বাহী কমিটি আগামী দুই নেতৃত্ব দিবেন।
অধ্যাপক খোরশেদ আলম মজুমদার হলেন হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল এর পরিচালক। আর অধ্যাপক ডা.মো. আসাদুর রহমান হলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের নাক কান গলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান।
এছাড়া সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম শাকিল এবং কোষাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক ডা.অলি হোসেন।
স্লিপ হল ঘুম এবং অ্যাপনিয়া বলতে মেডিকেলের ভাষায় শ্বাসরুদ্ধ হওয়া বোঝায়। সে হিসেবে স্লিপ অ্যাপনিয়া হচ্ছে ঘুমানোর সময় শ্বাসনালী কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া। শ্বাসনালী যতক্ষণ বন্ধ থাকে, রোগী নিশ্বাস নিতে পারেন না। এতে বাইরে থেকে বাতাসের মাধ্যমে অক্সিজেন শরীরে প্রবেশ করতে পারে না।
এতে মস্তিষ্ক, হার্ট বা অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দিনের পর দিন কিছু সময়ের জন্য অক্সিজেনের ঘাটতির ফলে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। যার প্রভাবে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
সম্মেলন শেষে মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্লিপ অ্যাপনিয়া ও ঘুমের সমস্যা আক্রান্ত্ম ব্যক্তিরা নানা বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত জানতে চান।
আমেরিকার জাতীয় নিদ্রা ফাউন্ডেশনের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সেখানে বড়দের মধ্যে শতকরা ৬০ জনই সপ্তাহে দুইরাত বা তার বেশি সময় ঘুমজনিত সমস্যায় ভোগেন। শতকরা ৪০ জনের বেশি লোক মাসে অন্তত দুইদিন অতি দিবা নিদ্রালুতায় আক্রান্ত হয়ে দৈনন্দিন কাজে বাধাগ্রস্ত হন।
সপ্তাহে দু’দিন এ ধরনের সমস্যায় পড়েন, এমন আছেন শতকরা ২০ জন। আমেরিকায় অন্তত ৪ লাখ লোক নিয়মিত ঘুমের সমস্যায় ভোগে। বড়দের ৫ শতাংশ স্লিপ অ্যাপনিয়া আক্রান্ত। শিশুদের ভেতর এ হার ২-৩ শতাংশ। তবে যেসব শিশুরা নাক ডাকে, তাদের ভেতর স্লিপ অ্যাপনিয়ার রোগী আছে ১০-২০ ভাগ।